,

‘অনিরাপদ’ কাশিয়ানীর রামদিয়া-গোপালপুর সড়ক

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ: সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্ক ভর করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রামদিয়া-গোপালপুর সড়কে। দিনের বেলায় সড়কটিতে মানুষের কোলাহল আর ব্যস্ততা থাকলেও, সন্ধ্যার পর পাল্টে যায় দৃশ্য। ভয়ে এ সড়কে চলাচল করতে চান না যাত্রী ও ভ্যান-ইজিবাইক চালকরা। রাত যতো গভীর হয়, আতঙ্ক ততো বাড়তে থাকে।

জানা গেছে, উপজেলা বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র রামদিয়া বাজারে যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন এ সড়কটি দিয়ে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু সড়কটি এখন হয়ে উঠেছে আতঙ্কের নাম। সাড়ে চার কিলোমিটার এ সড়কের মাঝামাঝি গজারিয়া এলাকায় বালুর মাঠ অংশে প্রায়ই ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। যাত্রী ও ভ্যান-ইজিবাইক চালকদের নির্জন স্থানে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বেঁধে রেখে করে পাশবিক নির্যাতন। কেড়ে নেয় সর্বস্ব। একের পর এক ওই এলাকায় ঘটছে ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যার মতো ঘটনা। ওই এলাকায় নেই কোন আলোর ব্যবস্থা। বালুর মাঠের অদূরে সড়কে থাকা ল্যাম্পপোস্টটিও নিয়ে গেছে চোরেরা। যে কারণে বালুর মাঠ সংলগ্ন ফাঁকা এলাকায় সন্ধ্যার পর ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে।

অভিযোগ রয়েছে, গেল বছরের ১৫ আগস্ট রাতে সড়কের বালুর মাঠ এলাকায় কাঁশবনের ভিতরে নিয়ে অপূর্ব টিকাদার নামে চার বছর বয়সি এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর গত ২৬ মার্চ ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি স্নানোৎসবে অংশ নিতে আসা বেশ কয়েকজন পূণ্যার্থীর একই স্থানে খুঁইয়েছেন মুঠোফোন-টাকা পয়সা। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল রাতে পৃথক সময়ে ডাকাতের কবলে পড়েন ভ্যানচালক রহমত আলী বিশ^াস, মিলন শেখ ও আবুল বাশার। তাদেরকে প্রত্যেককে চোখ বেঁধে পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রশি দিয়ে হাত-পা, মুখ বেঁেধ তিনটি ভ্যান নিয়ে যায়। ভ্যান হারিযে নিঃস্ব তিনটি পরিবার।

ভুক্তভোগী রহমত আলী বলেন, ‘আমি দুইজন যাত্রী নিয়ে রামদিয়া বাজারে যাই। যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে গজারিয়া বালুর মাঠ এলাকায় পৌঁছালে ৫-৬ জন লোক এসে চোখে লাইট ধরে এবং ভ্যানের গতিরোধ করে। এক পর্যায় আমাকে মারধরে করে চোখ বেঁধে পাশের ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে, মুখের মধ্যে কাপড় ঢুকিয়ে আমাকে ফেলে রেখে ভ্যান নিয়ে চলে যায় তারা। এ সময় আমার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। একই দিনে আরও দুইজনকে একই কায়দায় নির্যাতন করে তাদেরও ভ্যান নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমি কাশিয়ানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখনও কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ।’

সড়কটিতে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এসব অপরাধমূলক ঘটনার কথা স্বীকার করে কাশিয়ানী থানার রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ। আশা করি দ্রুত গ্রেফতারে সক্ষম হবো এবং সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।’

এই বিভাগের আরও খবর